শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় শাকসু নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
১১:৫৮ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
১১:৫৮ পূর্বাহ্ন



শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় শাকসু নির্বাচন

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)  অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে শেষ মুহূর্তে এসে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন শাকসুর স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। একই দাবিতে রবিবার ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদল। এসব তৎপরতাকে শাকসু নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলসহ একাংশ শিক্ষার্থী। তারা যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন। ওই নির্দেশনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঢাকায় গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কিছু শর্তে শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা ওই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে রবিবার স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকা অবস্থায় শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসংগত নয়।

রিটের খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে জড়ো হন। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি, ২০ জানুয়ারিতেই শাকসু নির্বাচন হতে হবে।

এ বিষয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'ছাত্রদল বারবার নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা শিক্ষার্থীদের রায়কে ভয় পায় বলেই নির্বাচন চায় না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে তারা নির্বাচন পেছাতে চাইছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা নভেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিলাম। ছাত্রদলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই জানুয়ারিতে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন আর কোনো ষড়যন্ত্রে নির্বাচন পেছাতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা নির্বাচন চায়।'

অন্যদিকে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস বলেন, 'নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হবে।'

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে আদালতের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের দিকে।

আরসি-০১