নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১০, ২০২৬
০৪:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট : মার্চ ১০, ২০২৬
০৪:৪৭ অপরাহ্ন
পুরো নাম নিলেন্দু চক্রবর্ত্তী। পারিবারিক ডাক নাম মাধব। সংগীতাঙ্গনে নিলেন্দু মাধব নামে পরিচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। সিলেট ল কলেজে পড়ার সময় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। গান গাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত গান লেখা সুরারোপ করেন। সংগীতে হাতেখড়ি ছোটবেলায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে স্টেজ শো করছেন নিয়মিত। শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেছেন নিজ কণ্ঠ দিয়েই। কিন্তু হঠাৎ বিরতি। অবশ্য এর কারণও আছে। কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু তাঁকে স্তব্ধ করে দেয়। আশার কথা বিরতির দিয়ে তিনি আবার ফিরছেন সংগীত জগতে।
![]()
ইতোমধ্যেই একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে তাঁর শ্রোতাদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। সিলেট মিরর-এর সাথে আলাপকালে তিনি তাঁর সংগীত জীবনের শুরু, বিকাশ এবং প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছেন। মাধব বলেন, সংগীতে হাতেখড়ি বাংলাদেশে শিশু একাডেমি সিলেটে শ্রীমতি ইতি ভৌমিকের কাছে। সেখানে শ্রীমতি কাবেরী দাসও ক্লাস নিতেন। এরপর মরহুম ওস্তাদ হুসেইন আলীর কাছে শাস্ত্রীয় সংগীত, নজরুল সংগীতে তালিম নেন। পরবর্তীকালে সিলেট রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদে শ্রী প্রতীক এন্দ টনির কাছে রবীন্দ্র সংগীতে তালিম নেন। ছোটবেলা থেকে পাশ্চাত্য সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ায় এক সময় বন্ধুরা মিলে ‘মৃদঙ্গ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন। কয়েক বছর পর সেটির পথচলা থেমে যায় মূলত ব্যান্ড সদস্য অপু স্থায়ীভাবে বিদেশ যাওয়ার কারণে। ব্যান্ড সংগীতে আগ্রহী হওয়ার কারণে যন্ত্র সংগীত বিভাগে কিবোর্ডে তালিম নেন সিলেটের অন্যতম সংগীত গুরু বিশ্বজিৎ দে অনুর কাছে। ২০০৬ এর শেষ দিকে এসে সিলেটের জনপ্রিয় ব্যান্ড টাফ বয়েজ এর ড্রামার /গীটারিষ্ট সঞ্জু আহমেদের কাছে বেজ গীটার শেখা শুরু সেখান থেকেই নতুন ব্যান্ড ‘এসএনএফ’- এর জন্ম । তিনি জানান, ‘২০০৮ সালে আমাদের প্রথম গান রেকর্ড হয় ভালোবাসা দিবস ০৮ নামে, ঐ বছর দুর্গাপূজাতে দ্বিতীয় গান আসে ‘মা আসছে’ শিরোনামে। ব্যান্ডের দুটো গানই আমার লেখা।’
![]()
নিলেন্দু মাধব বলেন, ‘২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ২০১২ সাল থেকে নিউইর্য়কসহ বিভিন্ন রাজ্যে সংগীত পরিবেশন করি। এর মাঝে গান লেখা সুর করা চলতে থাকে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যাণ্ড অর্থহীন-এর সাবেক ভোকাল গীটারিস্ট রাসেল রহমানের সখ্যতা গড়ে উঠে সেই ধারাবাহিকতায়। তিনি আমার লেখা তিনটি গানে সুরারোপ করে নিজ কন্ঠে ধারন করেন যা অপ্রকাশিত। ২০১৪ সালে বিয়ে করতে দেশে ফিরলে তখন মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। ওই সময় রাসেল ভাইয়ের মিরপুরের স্টুডিওতে যাবার পর আড্ডা দেওয়ার সময় নিজের লেখা ও রাসেল ভাইয়ের সুরে একটি গান করি ‘নীল জোছনায়’ শিরোনামে যা মূলত আমার প্রথম রেকর্ড করা কোনো গান ছিল। কিন্তু তা রিলিজ করা হয়নি। এই গানটি এই বছর আসবে।
![]()
মাধর জানান, ‘আমার রিলিজ প্রথম অফিসিয়াল একক গান ছিল ‘অজানা প্রান্তর’ শিরোনামে আমেরিকা ও বাংলাদেশ এর জনপ্রিয় শিল্পী গীতিকার সুরকার ডাবল আর রাজীব রহমান-এর লেখা সুর সংগীতে। গানটি প্রকাশ হয় রাজীব রহমান প্রডাকশনের ব্যানারে। পরবর্তীসময়ে একই প্রোডাকশন থেকে রাজীব রহমানের সুর সংগীতে আমার লেখা দ্বিতীয় গান বের হয় চন্দ্রা রায়ের কন্ঠে ‘নীরবে’ ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী সামিনা চৌধুরীর কন্ঠে ‘আমি তোমার হতে চাই’ শিরোনামে। এ ছাড়া নিজের ব্যান্ড থেকে আমার লেখা আরো কিছু গান ইউটিউবে বের হয় ‘তুমিহীনা’, ‘থেমে গেছে কোলাহল’ শিরোনামে। গত বছর পহেলা বৈশাখে আমার গাওয়া ‘ভ্রমর’ বের হয় প্রটিউনের ব্যানারে। গানটির সুর সংগীত করেন বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও পরিচালক সুমন কল্যান। এই বছর ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পায় জনপ্রিয় গীতিকার বন্ধু সাকী আহমেদের কথা ও সুমন কল্যানের সুরে ‘ফিরছি আবার বাড়ি’ গানটি। এই বছর আরো কিছু নিজের গাওয়া গান আসবে কিছু নিজের কথা সুরে ও সুমন কল্যানের সুরে। আমার সুর করা আরো কিছু গান বের হবে গানগুলো লিখেছেন জনপ্রিয় আহমেদ নূর, উজ্জ্বল দাস, মান্না পালের লেকা এবং আমার নিজের লেখা। এছাড়া কলকাতা থেকে আমার একটি ফোক অ্যালবাম বের হবে যার ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ। এখন শুধু কণ্ঠ দেওয়া বাকি।
এই শিল্পী জানান, ২০১৫ সালে মা মারা যাবার পর সংগীত থেকে কিছু বিরতি। কোভিডের পর আবার সক্রিয় হই। এখন থেকে সংগীতের নিয়মিত হবো আশা রাখি।
এএফ/০১