বাবার জরুরি কাজ

রানা মজুমদার বাপ্পী


জুন ২১, ২০২০
০১:১৯ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ২১, ২০২০
০৭:৩৭ অপরাহ্ন



বাবার জরুরি কাজ

আমার বাবা কাজের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বন্দী থাকার অভ্যাস তাঁর নেই। অথচ করোনার জন্য কাজপাগল আমার বাবার এখন প্রতিটা দিনই কাটে বাসায় বন্দী হয়ে।

এমনই এক বন্দী দিনের সকালবেলার ঘটনা। বাবা প্রায়ই যার রিকশায় করে যাতায়াত করেন সেই সালাম চাচা কি যেন এক দরকারে বাবার কাছে আসলেন। গেইটের বাইরে দাঁড়িয়েই বাবা সালাম চাচার সঙ্গে কথা বললেন। কথা বলার পর বাসায় ঢুকে বাবা দ্রুত রেডি হয়ে গেলেন। এতো তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন? আমার মা জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে বাবা বললেন কি জানি একটা জরুরি কাজ আছে। তাই এক্ষুনি বের হতে হবে। এর বেশি কোনকিছু না বলেই বাবা মুখে মাস্ক লাগিয়ে দ্রুত বের হয়ে গেলেন।

সকালে বের হয়ে বিকেল প্রায় চারটা বাজে জরুরি কাজ শেষ করে বাবা বাসায় ফিরলেন। বাবাকে দেখে খুব ক্লান্ত মনে হলো। উনার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল। বোঝা গেল জরুরি কাজ করতে করতে বাবা বেশ পরিশ্রান্ত হয়েছেন। যা-হোক বাবা ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলেন। এরপর একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন। সারাদিন অত্যধিক পরিশ্রম হওয়ায় বিছানায় শুতেই বাবার ঘুম চলে আসল।

বাবা যখন সারাদিনের পরিশ্রম  শেষে গভীর ঘুমের রাজ্যে তখন সালাম চাচা আবার আসলেন। এবার তিনি একা নন, উনার সঙ্গে আরেকজন লোকও আছে। সালাম চাচার কাছ থেকে জানতে পারলাম ওই লোকের নাম খসরু মিয়া, পেশায় ভ্যানচালক। লকডাউনের মধ্যে আয় রোজগার বন্ধ। তাই বাবার কাছে এসেছেন কিছু সাহায্যের জন্য। বাবা ঘুমে থাকায় আর ডেকে দেইনি। মার কাছ থেকে কিছু টাকা এনে খসরু মিয়াকে দিলাম।

যেহেতু বাবা সকালবেলা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমাদেরকে তেমন কিছু বলে বের হননি। তাই কৌতুহলবশত সালাম চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম সকালবেলা বাবা এতো তাড়াহুড়ো করে উনাকে সঙ্গে নিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন। তখন সালাম চাচা জানালেন উনার ঘরের চাল, ডাল শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু সাহায্যের জন্য উনি সকালবেলা বাবার কাছে এসেছিলেন। তখন বাবা সালাম চাচাকে সঙ্গে নিয়ে একটা পরিচিত মুদির দোকানে গেলেন। দোকান থেকে চাল, ডাল, আলু, তেলসহ আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনলেন। সেখান থেকে কিছু দিলেন সালাম চাচাকে আর বাকিটুকু উনার রিকশায় ঘুরে ঘুরে রোদে পুড়ে বেশকিছু দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করলেন।

ভাগ্যিস সালাম চাচা খসরু মিয়াকে সঙ্গে করে আবার বাসায় এসেছিলেন। তা না হলে তো জানতেই পারতাম না বাবার সারাদিনের জরুরি কাজ কী ছিল।

 

লেখক : সমাজকর্মী  

এএফ/০৩