হলুদ খামে বন্দি আবেগ

রেদ্বওয়ান মাহমুদ


অক্টোবর ০৯, ২০২০
০৩:২২ পূর্বাহ্ন


আপডেট : অক্টোবর ০৯, ২০২০
০৩:২২ পূর্বাহ্ন



হলুদ খামে বন্দি আবেগ
বিশ্ব ডাক দিবস

এককালে পারস্পরিক যোগাযোগের অনন্য উপায় ছিল হাতের লেখা চিঠি। ডাকযোগে আদান-প্রদান করা চিঠি ছিল হৃদস্পন্দনের অপর নাম। কারণ, এখানে হলুদ খামে মোড়ানো থাকতো প্রিয়জনের কথাগুলো। চিঠিতে করে উড়ে আসতো সময়, আবেগ আর খবরাখবর।

‘এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো পত্র দিও/ শেষ বিকালে মেলায় কেনা খামখেয়ালীর তাল পাখাটা/খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে/পত্র দিও’-হেলাল হাফিজের এই কবিতায় যে তীব্র আবেগের সঞ্চার এমন আবেগজড়ানো কথাগুলোই বয়ে এনেছে চিঠি। কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে বন্দি থাকা আবেগ আলোড়ন তুলেছে সংখ্যা না জানা কত চিঠি পাঠকের মনে।

দূরে থাকা মানুষদের তীব্র ব্যাকুলতা ছিল প্রিয়জনের কথা জানবার জন্য। কখনো সুসংবাদের চিঠিতে খুশিতে যেমন মন নেচে উঠতো তেমনি বাকরুদ্ধ করে দিতো দুঃসংবাদ। তখনকার সময়ে প্রিয়জনের দেওয়া এসব চিঠি মানুষ সংরক্ষণ করত যত্ন সহকারে।

তবে কালের যাত্রায় বদলে গেছে সবকিছুই। আজকের পৃথিবীতে নতুন প্রজন্মের কাছে হাতে লেখা চিঠি নিছক স্বপ্নের মত। হওয়ারই তো কথা, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস আ্যাপ, টুইটার, ইমেইল, ইমো, ভাইভার, স্কাইপি নতুন প্রজন্মকে আগলে রেখেছে। মরীচিকা ধরেছে ডাকবক্সগুলোতে, নীরবতা নেমেছে পোস্ট অফিসে আর কমেছে গুপ্ত কথার ঝুলি নিয়ে পোস্টম্যানের ঘুরে বেড়ানো।

তবু, আজও মানুষের চিঠি লেখা কমে যায়নি। মোবাইল-ইন্টারনেটের কারণে এনালগ ডাকের চাহিদা কমে পরিবর্তিত হয়েছে ডাকের রূপ। অপেক্ষার প্রহর গুণার বদলে এখন মুহূর্তেই সংবাদ আদান প্রদান হচ্ছে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তাতে কি আর হাতের লেখা চিঠির স্বাদ মিলে?

দেশে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরে সীমান্ত এলাকায় ৫০টি মাঠ পর্যায়ের ডাকঘর চালুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ডাক বিভাগ। বর্তমানে দেশে ডাকঘরের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৪০১টি। প্রতি ১৩ হাজার ৮২৮ জন নাগরিকের বিপরীতে রয়েছে ১টি ডাকঘর। আর ১৮৭৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বের্ন শহরে বিশ্ব ডাক সংস্থার (ইউপিইউ)’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে স্মরণ করে পূর্তি বছর ৯ অক্টোবর বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় বিশ্ব ডাক দিবস।

বাংলাদেশে মানুষের চিঠি লেখার প্রতি আগ্রহ যে ক্রমশ কমে আসছে এর প্রমাণ মিলছে ডাক বিভাগের বছরের পর বছর ধরে লোকসান করতে থাকায়। ডাক বিভাগ সূত্রমতে খাম ও ডাকটিকিট বিক্রি বিগত ১০ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। তবে বর্তমানে ডাক বিভাগের আয়ের সবচেয়ে বড় খাত বৈদেশিক শাখার পার্সেল প্রেরণ। আশাজাগানিয়া সংবাদ হলো, দেশে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল করতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ডাকঘরের সেবায় ডিজিটালাইজেশনেরও নেয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।