অজিফা বেগম এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন

সিলেট মিরর ডেস্ক


নভেম্বর ৩০, ২০২০
১২:৩২ পূর্বাহ্ন


আপডেট : নভেম্বর ৩০, ২০২০
১২:৩২ পূর্বাহ্ন



অজিফা বেগম এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন

প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

সিলেট শহরতলীর কাকুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা অজিফা বেগম এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অজিফা বেগমের বক্তব্যের সঙ্গে এলাকার মানুষের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন কাকুয়ারপার পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা আফরোজ আলী। 

রবিবার সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আফরোজ আলী বলেন, ‘গত রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে আমিসহ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার করেছেন কাকুয়ারপাড়ের বাসিন্দা অজিফা বেগম। অজিফা বেগম এলাকায় একজন অত্যাচারী মহিলা হিসেবে পরিচিত। নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিমানবন্দর থানার সাবেক সহকারী উপ পরিদর্শক ও সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আশেক এলাহীর সঙ্গে সখ্য গড়ে দীর্ঘদিন এলাকার লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন তিনি।’

আফরোজ আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে সরকারি ভূমি রয়েছে। বছর ১৫ আগে ওই ভূমি পরিত্যক্ত থাকায় আমিসহ এলাকার মানুষ অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকান ঘর নির্মাণ করি। অজিফা বেগম জমি কিনলেও তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। সম্প্রতি স্থানীয় কাকুয়ারপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির ব্যবহারের জন্য আমি ওই ভূমিটি ছেড়ে দেই। এতে অজিফা বেগম আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। এমনকি আদালতে মামলাসহ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আফরোজ আলী বলেন, অজিফা বিভিন্ন সময়ে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করে হয়রানি করে থাকেন। তার বিষয়ে গত ১১ নভেম্বর বিমানবন্দর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারের নিকট ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান অভিযোগ দিয়েছেন। কাকুয়ারপাড় এলাকার ৬৩ জন নাগরিকের সাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে এলাকার মানুষ অজিফা ও তার মেয়ে রোমানা বেগমের বিতর্কিত কর্মকান্ড সর্ম্পকে অভিযোগ করেছেন। স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অজিফা আমার ও কাকুয়ারপাড় পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজমুল আলম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান রুবেলের সঙ্গে ৮ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়েছিল অজিফার মেয়ে রোমানার। পরে রোমানা স্বামীর ঘর থেকে চলে আসে। এখন কাবিন নামার টাকার জন্য রুবেল ও তার পরিবারকে হেনস্থা করছে। অজিফার বড় ছেলে অপু মাদকাসক্ত। সে এলাকায় বহিরাগতকে নিয়ে মাদকের হাট বসায়। অপু ও তার সহযোগীদের কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অজিফার ছোট ছেলে রফু স¤প্রতি পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। রফু এখন গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আফরোজ আলী অজিফার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কাকুয়ারপাড় পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নজমুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ আলী, কোষাধ্যক্ষ উস্তার আলী এবং দপ্তর সম্পাদক লিটন কুমার দেব।

বিএ-০৭