সাংসদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি


মে ০৪, ২০২১
০৯:৪৯ অপরাহ্ন


আপডেট : মে ০৪, ২০২১
০৯:৪৯ অপরাহ্ন



সাংসদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন সরকারকে (৫৫) মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওধার গ্রামের বাসিন্দা সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের আপন বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন হাজী মাসুদ (৫৮) ও তার ছেলে তানভীর হোসেন সাগরকে (২৪) আসামি করে মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেলে ধর্মপাশা থানার ওসির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের পাইকুরাটি নতুন বাজার এলাকায় ওই মারধরের ঘটনা ঘটে।

ধর্মপাশা থানার পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন সরকারের পাইকুরাটি ইউনিয়নের নতুন বাজারে একটি দাগে ১৯ শতক জায়গা রয়েছে। এই জায়গার মধ্যে পাঁচ শতক জায়গা তিনি অন্যত্র বিক্রি করেছেন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে তিনি পাইকুরাটি নতুন বাজার এলাকায় যান। ওই ব্যাংক কর্মকর্তা লোকজন নিয়োজিত করে তার জায়গার মধ্যে থাকা একটি টিনের ঘর ভাঙতে শুরু করেন। ওইদিন বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন হাজী মাসুদও পাইকুরাটি নতুন বাজারে যান। এ সময় সেখানে বিকাশ রঞ্জন সরকারকে দেখতে পেয়ে তিনি জানতে চান, পাঁচ শতক জায়গা বিক্রি করার আগে তাকে কেন জানানো হয়নি। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মোশাররফ হোসেন হাজী মাসুদ ও তার ছেলে সাগর মিলে বিকাশ রঞ্জন সরকারকে কিল-ঘুষি দেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা দৌড়ে গিয়ে পাইকুরাটি নতুন বাজার এলাকার একটি বসতঘরে আশ্রয় নেন। এ অবস্থায় হাজী মাসুদ ও তার লোকজন ওই বসতঘরের বাইরে অবস্থান নেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে মারধরের শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার ও ধর্মপাশা থানার ওসি খালেদ চৌধুরীকে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনাটি জানান। এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা আড়াইটার দিকে থানার ওসি খালেদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকাশকে ওই বসতঘর থেকে বাইরে বের করে তাকে মোটরসাইকেলযোগে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাংসদের বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন হাজী মাসুদ বলেন, 'আমি ও আমার ছেলে মিলে কাউকে মারধর করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ভিত্তিহীন।'

ধর্মপাশা থানার ওসি খালেদ চৌধুরী বলেন, 'এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

 

এসএ/আরআর-০৫