দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

সিলেট মিরর ডেস্ক


জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
০৪:৪৭ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
০৪:৪৭ অপরাহ্ন



দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, “বৃহত্তর জেলা হিসেবে অনেক জায়গায়ই জেলা হেডকোয়ার্টার হয়েছে সিটি করপোরেশন। আপনারা কি সিটি করপোরেশন পেয়েছেন? পান নাই। কেন?

“আপনারা তাহলে কি বাংলাদেশের সৎ ভাই? এ সৎ ভাইকে মানুষ সম্পত্তি দিতে চায় না, তার অধিকার দিতে চায় না। আমরা এই বৈষম্যকে খতম করব ইনশাআল্লাহ।”

শুক্রবার বাদ জুমা দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন শফিকুর।

তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসায় সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়; আমরা আপনাদেরকে অত্যন্ত আস্থার সাথে আশ্বস্ত করছি—দিনাজপুর শহর ইনশাআল্লাহ সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে।

“সিটি করপোরেশন হওয়ার সাথে সাথে অনেকগুলো উন্নয়ন অটোমেটিক্যালি দিনাজপুর শহর পেয়ে যাবে।”

জামায়াত আমির বলেন, “প্রিয় দিনাজপুরবাসী, পাকিস্তান আমলে যে ১৯টি বড় জেলা ছিল, সেই ১৯ জেলার মধ্যে দিনাজপুর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। দিনাজপুরকে গণ্য করা হয় বাংলাদেশের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে।

“সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ যোগান দেয় বৃহত্তর দিনাজপুর। এই জেলা নিজের উর্বর মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে যুগের পর যুগ দিয়ে চললেন। বাংলাদেশ দিনাজপুরকে কী দিল?”

শফিকুর রহমান বলেন, “প্রিয় দিনাজপুরবাসী, এখানে কৃষক ভাইয়েরা, বোনেরা, কিষাণীরা—বড় কষ্ট করে ফসল ফলান। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির এখানে ব্যবহার খুবই সীমিত।

“আজকে ২০২৬ সাল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হওয়ার ২৫ বছরের ভেতরে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয় ঘটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে চার গুণ বেশি ফসল উৎপাদন করছে। আমরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করি, কিন্তু আমাদের জমিতে সেই ফসল ফলে না।

“আমরা চাই, উত্তরবঙ্গ হোক আমাদের কৃষি শিল্পের রাজধানী। আমরা সেই শিল্পই এখানে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। কৃষিতে আর পুরনো ধাঁচ এখানে চালানো হবে না। এখানে কৃষিকে আধুনিকায়ন করে আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্য এবং স্বল্পমূল্যে কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে আমরাই জমির উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।”

জামায়াত আমির শফিকুর বলেন, “একদল দুর্বৃত্ত বলে—আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, সরকার গঠন করি, মা-বোনদেরকে আমরা ঘরে বন্দি রাখব। যারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আজকে নারী সমাজের ভালোবাসা এবং সমর্থন দেখে ভীত সন্ত্রস্ত, তারাই এই সমস্ত কথা বলে আমাদের মা-বোনদেরকে তারা ধোঁকা দিতে চায়।

“তারা আমাদের মা-বোনদের সাথে কী আচরণ করে আমাদের মা-বোনরাই সাক্ষী, আমাদের বলতে হবে না। মা-বোনরা তাদেরকে ভালো করে চেনে। এরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করত। এদেশের তরুণ যুবসমাজ কোনোদিন জামায়াতকে সমর্থন করবে না। এদেশের নারী সমাজ কখনো জামায়াতকে মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, “৫ অগাস্টের পর ৩৬ জুলাইয়ের পর বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোতে আমাদের মেয়েরা প্রমাণ করেছে যে—আমরা ছেলেদের চাইতেও ছাত্রশিবিরকে আমাদের আস্থার জন্য বেশি পছন্দ করি।

“ওদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে—‘তোমার তো ড্রেস-টেস ঠিক নাই, তুমি ছাত্রশিবিরকে ভোট দিবা কেন?’ বলছে যে, ‘ছাত্রশিবিরের কাছে আমরা নিরাপদ, এই জন্য ছাত্রশিবিরকে ভোট দেব’। মায়েরাও আজকে তাই বলছেন—‘জামায়াতে ইসলামীর কাছে আমরা নিরাপদ, এই জন্যই আমরা জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নেব’।”

দিনাজপুরবাসীর উদ্দেশে শফিকুর বলেন, “এখানে প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হয়, লিচু উৎপাদন হয়; তাড়াহুড়া করে বিক্রি করতে হয়। আমি আগেই বলেছি, এর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেখানে আরও উন্নত মানের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে। কী ইন্ডাস্ট্রি?

“আমের রস লিচুর রস উচ্চ মূল্যে বিদেশে বিক্রি হয়। আমাদের দেশে তার ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি না থাকার কারণে কৃষক অস্থির হয়ে যায়- কেমনে তাড়াতাড়ি বিক্রি করে দেবে। এই জন্য সে তার উৎপাদিত ফসলের ফলের সঠিক মূল্য পায় না।

“মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের পেট মোটা হয় খাইতে খাইতে। আমরা এখানে তৃণমূলে ইনশাআল্লাহ সেই ইন্ডাস্ট্রি গুলো গড়ে তুলব। লাভ দুটি হবে—কৃষকরা উৎসাহিত হবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে; আর বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে আমাদের যুবকদের।”

আরসি-০৭