ডিজিটালেও ভোটের প্রচারে সরব সিলেটের প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
০১:৪২ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
০১:৪২ অপরাহ্ন



ডিজিটালেও ভোটের প্রচারে সরব সিলেটের প্রার্থীরা

সিলেটজুড়ে জমে উঠেছে ভোটের ডামাডোল। মাঠের প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সরব প্রার্থীরা। গান, সুর আর ছন্দে তৈরি থিম সং, ভিডিও বার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথাগত মাইকিং ও পোস্টারিংয়ের বাইরে গিয়ে এবার প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। চিরায়ত সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের দৃশ্যায়নের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভোটের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

সিলেট বিভাগের ছয়টি আসনে এবারের ভোটযুদ্ধে নামছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। তাদের পক্ষে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দফায় দফায় মিছিল-মিটিং করে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন নির্বাচনী বার্তা। নির্বাচনী মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

সিলেট-১ আসনে আটজন, সিলেট-২ আসনে পাঁচজন, সিলেট-৩ আসনে ছয়জন, সিলেট-৪ আসনে পাঁচজন, সিলেট-৫ আসনে চারজন এবং সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-র সঞ্চয় কান্ত দাস।

এই আসনে প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরজুড়ে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও বিরামহীনভাবে প্রচার চালাচ্ছেন।

সিলেট-২ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য। এ ছাড়া জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মুনতাহির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীসহ অন্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক কয়েক মাস ধরেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আগের কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজুর প্রচারও চলছে জোরেশোরে।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তিন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় টানা প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরাও। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা জাহিদ আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানও নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিল্লাল উদ্দিন প্রচারে রয়েছেন। এর মধ্যে মামুনুর রশীদ ও উবায়দুল্লাহ ফারুক তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি।

সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারে সামনে রয়েছেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম। দুই উপজেলাজুড়ে গানে গানে এই তিন প্রার্থীর প্রচারণা শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হলেও সিলেট-৫ আসন ছাড়া অন্য আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী না থাকা আসনগুলোতে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে সংগঠিতভাবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আরসি-০৪