নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
০৬:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
০৬:৫১ অপরাহ্ন
একটি দল গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। দলের নাম উল্লেখ না করলেও আঙ্গুল তিনি তুলেছেন বিএনপির দিকেই।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের উদ্যোগে আয়োজিত গণজমায়েতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, 'একটি দল গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘না’ মানে ভারতের দালালি করা, দিল্লির দালালদের পক্ষে দাঁড়ানো এবং বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবার জাতীয় নেতৃত্বকে হত্যার পরিকল্পনা করা।'
ওই দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, 'আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান? তাহলে পরিষ্কার করে বলুন। আমরা হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।'
সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর তাৎপর্য তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া। এই দেশের কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের টাকায় যে রাষ্ট্র চলে, তাদের সন্তানদের আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করাই ‘হ্যাঁ’-এর মূল উদ্দেশ্য।'
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ মানে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে গড়ে ওঠা গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতির অবসান এবং খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করা।'
গণভোট প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, 'দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, সেটি হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।'
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।'
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, 'দলটিকে নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরু করতে হবে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে।'
সমাবেশের শেষ দিকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণপ্রচারণা জোরদার করতে হবে।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'আগামী নির্বাচনে যেন কোনো চাঁদাবাজ বা জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায়, সে জন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।'
ছাত্র নেতারা বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়া মানে কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতানো নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশ গড়া।'
শহীদদের রক্তের দায় রক্ষা করতে এবং চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আরসি-০২