খেলা ডেস্ক
জুন ১৩, ২০২৬
০২:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট : জুন ১৩, ২০২৬
০২:৪৫ অপরাহ্ন
ঘরের মাঠে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শুভসূচনাটা এর চেয়ে রঙিন হতে পারত না যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে সহ-স্বাগতিকেরা। ফোলারিন বালোগানের চোখধাঁধানো জোড়া গোল, প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী উপহার এবং শেষ মুহূর্তে রেইনার ফিনিশিংয়ে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৭ মিনিটে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল টেনে নিয়ে প্যারাগুয়ের বক্সে ঢোকেন ওয়েস্টন ম্যাককেনি। এসি মিলান তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং শেষে ম্যাককেনি যখন বক্সের ভেতর কাটব্যাক করেন, তা ঠেকাতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এতে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম আত্মঘাতী গোলের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নিজের নামের পাশে জড়ান বোবাদিয়া।
১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ২৮ মিনিটে পুলিসিক ও টাইলার অ্যাডামসের পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন এএস মোনাকো ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। তবে পুলিসিক অফসাইডে থাকায় ভিএআরের সাহায্যে সেই গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোল বাতিলের সেই আক্ষেপ ঘুচতে মাত্র ৩ মিনিট সময় নেন ২৪ বছর বয়সী বালোগান। ৩১ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের বাড়ানো পাস বক্সের ভেতর থেকে প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান বালোগান। ফলে ২-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে স্বাগতিকেরা।
দুই গোলে এগিয়েও আক্রমণ চালায় স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে টিলম্যানের বাড়ানো থ্রু-পাস ধরে বক্সে ঢোকেন বালোগান। এরপর বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। তার গোলের ওপর ভর করেই ৩-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ডিফেন্সিভে কিছুটা উন্নতি আনে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিম প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করেছেন ভেবে রেফারি প্রথমে রিমকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআর চেকের পর রিপ্লেতে দেখা যায়, আলমিরন কোনো রকম স্পর্শ ছাড়াই ডাইভ দিয়েছেন। ফলে রেফারি মার্কিন অধিনায়কের কার্ড বাতিল করে উল্টো নাটকের জন্য আলমিরনকে হলুদ কার্ডের সাজা দেন।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটে অবশ্য এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষকের লম্বা শট থেকে বল পেয়ে আলমিমন পাস দেন এনসিসোকে। তার বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে প্যারাগুয়ের বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও ডান কোণ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান।
গোল খেয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও উল্লাসে মাতান জিওভানি রেইনার। খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে ফ্রিম্যানের পাস থেকে প্যারাগুয়ের বক্সের প্রান্তে বল পান এই বদলি মিডফিল্ডার। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করেন রেইনা। আর তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এএফ/০৩