সিলেট মিরর ডেস্ক
জুলাই ০২, ২০২৬
০৫:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট : জুলাই ০২, ২০২৬
০৬:২০ অপরাহ্ন
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হাম ও উপসর্গ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশুর প্রত্যেকেই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে এই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাড়ে তিন মাস ধরে দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭২৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন। আর বাকি ৬৩১টি শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৪টি শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০২টি শিশু। বিপরীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৭৭ জন।
গত সাড়ে তিন মাসের সামগ্রিক চিত্র আরও ভয়াবহ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে ১২ হাজার ২৮৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ আক্রান্ত মিলিয়ে মোট ৮৬ হাজার ৪১১টি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, তাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হামের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের জটিলতা অনেক বেশি দেখা দিচ্ছে। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জিসি / ০৪