সরকারের ত্রাণ কোথায় যায়?

আল-আমিন সরদার


জুন ২৬, ২০২০
০৭:৪৯ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ২৬, ২০২০
০৭:৪৯ অপরাহ্ন



সরকারের ত্রাণ কোথায় যায়?

গোটা বিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের প্রিয় দেশও করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগে বিপর্যস্ত। এই কঠিন অবস্থা মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ও প্রশাসন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়, একশ্রেণির জনপ্রতিনিধি এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন। আখের গোছানোর মতলবে আছেন তারা। এই দুঃসময়কে তারা মওকা হিসেবে নিয়েছেন। এর চেয়ে ন্যাক্কারজনক বিষয় আর কী আছে? এই অশুভ মানুষগুলো ত্রাণের সামগ্রী ও অর্থ নানা ছল-ছাতুরে আত্মসাৎ করছে। পত্রিকায় এসেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজির চালও তারা গুদামজাত করে রেখেছেন। সরকারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির তালিকায় নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম রাখা হয়েছে।

সরকার এ ব্যাপারে তৎপর থাকলেও  ত্রাণচোরদের ধরতে পারছে না।  টেলিভিশনের সংবাদে জানা গেছে, ১০০ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে জনমনে স্বস্তি আসেনি। কারণ এরপরও এই দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুশিয়ারির পরও ত্রাণচোররা শুধরায়নি। ফলে মানুষের উদ্বেগ উৎকন্ঠা থেকেই গেছে। অসহায় মানুষ বিপদে পড়ে ত্রাণ আর সাহায্যের দিকে হাত বাড়িয়েছে। কিন্তু পুরনো শকুনরা তাদের ভয়হীন লুটপাটেই ব্যস্ত।

সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যে ১০০ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে, তাঁরা নানা অপতৎপরতায় স্বপদে ফিরে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে আছেন ৩০ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৬৪ জন ইউপি সদস্য, চারজন পৌর কাউন্সিলর, একজন উপজেলা কাউন্সিলর ও একজন জেলা পরিষদ সদস্য। তবে এর বাইরেও অনেক জনপ্রতিনিধির নানা দুষ্কর্মের খবর সংবাদমাধ্যমে আসছে। আমি মনে করি, এই চোরদের হাত থেকে সরকারের ‘সহায়তা’ বাঁচানো প্রথম কাজ। এই বিষয়টি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি যারা বরখাস্ত হয়েছে, তাদেরকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

লেখক : শিক্ষার্থী